মেহেন্দিগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানের চাল চুরি
মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জামাল খান জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি কার্ডধারী জেলেকে দুই মাসের ফিজিএফের চাল বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সে হিসেবে এক একজন জেলে ৪০ কেজি করে দুই মাসের জন্য মোট ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। সেভাবেই চাল বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন মেম্বাররা।
তিনি বলেন, ‘দু’দিন পূর্বে আন্ধারমানিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম আমাদের সকল মেম্বারদের ফোন করে বলেন ওয়ার্ডের অধিনস্ত জেলেদের কার্ড সংগ্রহ করে গণজমায়েত না করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল পৌছে দিতে।
চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী ১, ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ব্যতিত অন্য ছয়টি ওয়ার্ডের সদস্য বৃহস্পতিবার চাল উত্তোলন করতে যান। এসময় তাদেরকে নির্ধারিত ৮০ কেজি চাল না দিয়ে দুই মাসের জন্য ১৫ কেজি করে মোট ৩০ কেজি চাল বিতরণ করেন চেয়ারম্যান।
ইউপি সদস্যরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসরাম জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সঠিক ভাবে বিতরণ না করে প্রতি জেলের ভাগের ৫০ কেজি করে চাল আত্মসাত করেন। এর কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মেম্বারদের ভুল বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। মেম্বার এবং সুবিধাভোগী জেলেরা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এমনকি খবর পেয়ে কাজীরহাট থানার ওসি আনিসুল ইসলাম ও উপজেলা মৎম্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল বলেন, ‘ঘটনা শুনতে পেয়ে থানা পুলিশ এবং মৎস্য অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান পালিয়ে আছেন। তাকে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। কোন সিদ্ধান্ত হলে সেটা পরে জানানো হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানাধীন আন্ধারমানিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ই্সলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে মোট ৭২৩টি কার্ড রয়েছে। কিন্তু তার বিপরিতে ৩৮৫টি কার্ডের চাল এসেছে।
তাই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় সকল জেলেকে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিজন জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দিতে বলেছেন স্থানীয় সাংসদ পঙ্কজ নাথ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এক একজন জেলেকে আপাতত ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। বাকি ১০ কেজি চাল পরবর্তী সংকট মোকাবেলার জন্য রাখা হয়েছে। তাছাড়া এখনো সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের চাল দেয়া সম্ভব হয়নি। যা সবই গোডাউনে সংরক্ষণে রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসারকে গোডাউন খুলে দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কিছু লোক আছে যারা আমার বিরোধীতা করে আসছে। সেই বিরোধীতার সূত্র ধরেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি শপথ নিয়ে বলতে পারি কোন জেলের এক মুঠো চালও আমি আত্মসাত করিনি।

কোন মন্তব্য নেই
Please do not enter any spam link in the comment box.
Thank you